মৌলভীবাজার প্রতিনিধিঃ


মৌলভীবাজার–রাজনগর উপজেলার গ্রামীণ অবকাঠামো বিশেষ করে রাস্তাঘাট গত সতের বছরে সাংঘাতিকভাবে বিপর্যস্ত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন মৌলভীবাজার–৩ (সদর–রাজনগর) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী এম নাসের রহমান। তিনি বলেন, গ্রামীণ অবকাঠামোর প্রথম উন্নয়ন ধাপটাই হলো রাস্তাঘাট। এসব সড়কের উন্নয়ন ও সংস্কার কাজ করাই হবে তাঁর প্রথম পদক্ষেপ।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) দুপুর ১২ ঘটিকার সময় মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মনোনয়ন বাছাই পর্বে এম নাসের রহমান কে বৈধ ঘোষণা দেওয়ার পর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সম্মুখে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা বলেন।
এম নাসের রহমান বলেন, রাস্তাঘাট উন্নয়নের পর পর্যায়ক্রমে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পর্যটনসহ অন্যান্য খাতে গুরুত্ব সহকারে উন্নয়নের যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। শহর ও গ্রামে বিশুদ্ধ সুপেয় পানির সু-ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি মৌলভীবাজারের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালকে আরও আধুনিকায়ন করে সকল রোগীর সুচিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার প্রসারেও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে সরকারিভাবে দুটি জেলা পর্যটন জেলা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে—একটি কক্সবাজার, অন্যটি মৌলভীবাজার। কিন্তু বিগত সরকার কক্সবাজারের জন্য বিশাল উন্নয়ন করলেও মৌলভীবাজারের জন্য ছিটেফোঁটা কাজও করেনি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “এটা কি এম সাইফুর রহমানের জায়গা বলেই এখানে উন্নয়ন দরকার নেই?”
এম নাসের রহমান বলেন, মৌলভীবাজার পর্যটনের বিশাল অপার সম্ভাবনার জেলা। এখানে একটি বিমানবন্দর ও ডেডিকেটেড ট্রেন সার্ভিস প্রয়োজন। তাঁর প্রথম পদক্ষেপ হবে পর্যটন জেলা হিসেবে সমশেরনগর বিমানবন্দর চালু করানো এবং ঢাকা থেকে শ্রীমঙ্গল পর্যন্ত একটি ডেডিকেটেড ট্রেন চালু করা।
তিনি বলেন, ঢাকা–শ্রীমঙ্গল রুটে ট্রেনের টিকিট পাওয়া এখন সোনার হরিণ। তিনি নিজেও অনেক সময় টিকিট পান না। একটি ডেডিকেটেড ট্রেন চালু হলে মৌলভীবাজার জেলার মানুষ নির্বিঘ্নে টিকিট পাবে এবং এখানে সহজে আসতে পারবে।
পর্যটন উন্নয়নের অংশ হিসেবে তিনি বলেন, জেলার পর্যটন সড়কগুলো প্রশস্তকরণ করে উন্নয়ন করা দরকার এবং টুরিস্ট পাস সিস্টেম চালু করতে হবে। পর্যটকরা যাতে চা বাগান, মাধবপুর লেক ও মাধবকুণ্ডসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান একদিনেই ঘুরে দেখতে পারেন, সে লক্ষ্যে টুরিস্ট বাস সার্ভিস চালু করা হবে।
নারীদের কল্যাণ প্রসঙ্গে এম নাসের রহমান বলেন, নারীদের জন্য সবচেয়ে বেশি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। বিনা পয়সায় ফুড ফর এডুকেশন কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. ফয়জুল করিম ময়ূন, সদস্য সচিব আব্দুর রহিম রিপন, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আলহাজ্ব আব্দুল মুকিত, বকসী মিসবাউর রহমান, মো. ফখরুল ইসলাম, সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মো. বদরুল আলম, পিপি আব্দুল মতিন, মৌলভীবাজার সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মুজিবুর রহমান মজনু, সাধারণ সম্পাদক মারুফ আহমেদ, পৌর বিএনপির সভাপতি অলিউর রহমান, রাজনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুল ইসলাম শেলুন, সাধারণ সম্পাদক আব্বাস আলী মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ ছাত্র দলের সাবেক আহবায়ক মোঃ জনি আহমদসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
