রাজনগর প্রতিনিধিঃ

রাজনগরের টেংরাবাজারে রাজনৈতিক নেতা নুরুল ইসলামের বাড়ী ও গরুর খামারে আগুন লাগিয়ে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকার মালামাল লুঠ।
প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর গতকাল সোমবার (৫ আগস্ট), ২০২৪ ইং তারিখে রাজনগর উপজেলার টেংরাবাজার ইউনিয়নের আওতাধীন রামভদ্রপুর নামক গ্রামস্থ উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জনাব নুরুল ইসলাম নামক এক ভুক্তভোগির বাড়িতে ও তাঁর পরিচালিত গরুর খামারে আগুন লাগিয়ে লুঠপাঠ ও হামলা-ভাঙচুর এবং গৃহ পালিত গরু পুড়িয়ে মারার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ঘটনা সূত্রে জানা যায়, গতকাল ০৫ই আগস্টে আওয়ামীলীগ সরকারের পতনের পর চারিদিকে আগুন, লুটপাট ও মারামারি চলতে থাকে। এমন সময় ভুক্তভোগি নুরুল ইসলাম ও তাঁর পরিবার গোপন সংবাদ পেয়ে বাড়ী হইতে আত্মরক্ষার্থে পালিয়ে অন্যত্র চলিয়া গেলে দুর্বৃত্তরা তাকে ঘরে না পেয়ে বিকাল আনুমানিক ৪.০০ টার দিকে চারিদিকে মিছিল চলাবস্থায় হঠাৎ এনাম মিয়া ও দীপক এর সহযোগিতায় তাদের ক্যাডার বাহিনী এসে বাড়ীতে অতর্কিত হামলা ও ভাংচুর চালায় এবং ঘরে প্রবেশ করিয়া তার স্ত্রীর সমস্ত স্বর্ণ লুঠপাঠ করিয়া নিয়ে যায়। একপর্যায়ে দৃর্বৃত্তরা নুরুল ইসলামের গরুর খামারে থাকা ৬০-৭০ টা গরুর মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি গরু লুঠপাঠ করিয়া বাকিগুলো আগুনে পুড়িয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে। পরে ভুক্তভোগি নুরুল ইসলাম এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান যে, আমার সাথে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বশতঃ এমন হামলা চালিয়ে আমার বাড়ী-ঘর ও খামার পুড়িয়ে আমাকে আর্থিভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করা হয়েছে।
ঘটনার ভুক্তভোগি নুরুল ইসলাম তাঁর বাড়ীতে ও খামারে আগুনের বিষয়টি স্বীকার করেন। হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের বিষয়ে জানতে রাজনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিনয় ভূষণ রায় এর মুঠোফোনে কল করলে তিনি কেটে দেন। পরে রাজনগর থানার শীর্ষ পর্যায়ের দুইজন কর্মকর্তার মুঠোফোনে কল করলে তাঁরাও ধরেননি।
এদিকে শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও দেশ ছাড়ার খবরে রাজনগরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে ছাত্র-জনতা মিছিল করেন। বৃষ্টিতে ভিজে হাজার হাজার মানুষ শহরের বিভিন্ন রাস্তায় বিজয় মিছিল বের করেন।
ঘটনার ভুক্তভোগি নুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমার বাড়ীতে ও খামারে আগুন দেয়া হয়েছে। ঘরে ও খামারের ভেতর ঢুকে ভাঙচুরের পাশাপাশি আগুন দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা করা হয়েছে।
