মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধিঃ

আলহাজ্ব জি কে গউছ: এক সংগ্রামী ও রাজপথের অগ্নিশিখা
রাজনীতি তার কাছে কখনোই কেবল ক্ষমতার লড়াই ছিল না। এটি ছিল এক মহৎ ত্যাগযজ্ঞ—অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার অদম্য শপথ। সেই শপথ নিয়েই সাড়ে পনেরো বছর ধরে রাজপথে বুক চিতিয়ে লড়েছেন আলহাজ্ব জি কে গউছ, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এবং আজকের হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি।
যেদিন শেখ হাসিনার স্বৈরাচারী শাসন বিএনপি ও বিরোধীদলের কণ্ঠরোধ করতে শুরু করল, সেদিন থেকেই জি কে গউছ রাজপথকে নিজের ঘর বানালেন। পুলিশের টিয়ার সেল, রাবার বুলেট, লাঠির আঘাত কিংবা মামলা—কিছুই তাকে দমাতে পারেনি। দিনের পর দিন তাকে লুকিয়ে থাকতে হয়েছে, কখনো কারাগারের অন্ধকার সেলে কাটাতে হয়েছে মাসের পর মাস। তবু তিনি হার মানেননি।
রাজপথে পড়ে থাকা আহত নেতাকর্মীদের কাঁধে তুলে নিয়েছেন তিনি, পুলিশের আঘাতে রক্তাক্ত হয়েও দাঁড়িয়ে থেকেছেন পতাকার নিচে। চোখে ছিল একটাই দৃঢ় বিশ্বাস—গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতেই হবে, মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনতেই হবে।
রাজনীতির শুরু ছাত্রদলের মিছিলে। সেখান থেকেই শিখেছিলেন ত্যাগ আর সংগ্রামের পাঠ। যুবদলের অগ্রণী নেতা হিসেবে রাজপথে লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা তাকে গড়ে তুলেছিল দুর্দম যোদ্ধা হিসেবে।
সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান তার নেতৃত্বগুণ চিনে নিয়েছিলেন। হবিগঞ্জ পৌরসভা থেকে জেলা জুড়ে বিএনপির উন্নয়ন ও সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে তার ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। ছাত্রদলের কর্মী থেকে জেলা বিএনপির সভাপতি—আজ জি কে গউছ সেই নেতৃত্বের প্রতীক।
গত দেড় দশক বাংলাদেশে ছিল ভয়াবহ দমন-পীড়নের সময়। বিরোধীদলের সভা-সমাবেশ, মিছিল, এমনকি ঘরে বসেও শান্তিতে থাকা যায়নি। সেই অন্ধকার সময়ে বুক চিতিয়ে রাজপথে থাকা নেতাদের মধ্যে অগ্রসারিতে ছিলেন জি কে গউছ।
যখনই পুলিশি হামলা হত, তখনই তাকে সামনে দেখা যেত। দলের বিপদে তিনি হয়ে উঠতেন দৃঢ় প্রাচীর। তার নেতৃত্বে হবিগঞ্জসহ সিলেট বিভাগের রাজপথ মুখর ছিল বিক্ষোভ, শ্লোগান ও প্রতিরোধে।
তার নাম উচ্চারণ মানেই নেতাকর্মীদের চোখে সাহস জ্বলে ওঠা। শহীদ জিয়ার আদর্শ ও তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বের প্রতি অবিচল আস্থাই তাকে বানিয়েছে আন্দোলনের প্রতীক। দলের অনেকে যখন দুঃসময়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেত, গউছ তখনও রাজপথেই ছিলেন।
২০০৫ সালে শাহ এ এম এস কিবরিয়া হত্যা মামলায় তাকে সাজানো মামলা দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়। বছরের পর বছর কারাগারের অন্ধকার সেলে কাটাতে হয় তাকে। কিন্তু ভেঙে পড়েননি; বরং সেই কারাগারের অন্ধকারে তার বিশ্বাস ও সংকল্প আরও দৃঢ় হয়েছে।
কারাগারে থাকাকালীনও জনগণ তাকে হবিগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত করেন—এক বিরল ইতিহাস। কারণ গউছ ছিলেন মানুষের আস্থার প্রতীক, এক অদম্য সৈনিক।
শেখ হাসিনার নির্দেশে হবিগঞ্জ কারাগারে তার ওপর হত্যার চেষ্টা চালানো হয়। কিন্তু আল্লাহর রহমতে তিনি বেঁচে যান। মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে আসেন তিনি, হয়ে ওঠেন মৃত্যুঞ্জয়ী জি কে গউছ। তার বেঁচে ফেরা শুধু নিজের জীবনের নয়, বিএনপি ও গণতন্ত্রকামী মানুষের জন্য নতুন আশা।
হাসিনার পতনের পর জি কে গউছ তার নেতৃত্বে সিলেট বিভাগের প্রতিটি জেলায়, উপজেলায়, পৌরসভায়, ইউনিয়নে ও ওয়ার্ডে বিএনপিকে শক্তিশালী করতে দল পূর্ণগঠনের দায়িত্ব পালন করছেন। তারেক রহমানের নির্দেশে, তার নেতৃত্বে আজ সিলেট বিভাগ জুড়ে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে পছন্দের নেতা নির্বাচিত হচ্ছে।
দল তৃণমূলে বিশাল শক্তি সঞ্চয় করছে, যা আগামী জাতীয় নির্বাচনে ১৯টি আসনে বিএনপির প্রার্থী বিজয়ী হতে গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা প্রদান করবে। এই কর্মকাণ্ড শুধু সংগঠনকে শক্তিশালী করেই রাখছে না, বরং ভবিষ্যৎ নির্বাচনী জয়ের সম্ভাবনাকেও নিশ্চিত করছে।
শহীদ জিয়াউর রহমানের ধানের শীষের সঙ্গে মিলিয়ে দিয়েছেন নিজের ঘাম আর রক্ত। বেগম খালেদা জিয়ার কারাবন্দি জীবনে দোয়া করেছেন, আন্দোলনের মিছিলে উচ্চারণ করেছেন তার নাম। তারেক রহমানের প্রতি ভালোবাসা তাকে শক্তি দিয়েছে প্রতিটি আঘাত সামলাতে।
জি কে গউছ কেবল একজন নেতা নন; তিনি প্রতিরোধের প্রতীক, মৃত্যুঞ্জয়ী সংগ্রামী। প্রমাণ করেছেন—“ত্যাগী নেতাকে ফাঁসানো যায়, কারাগারে বন্দি করা যায়, হত্যার চেষ্টাও করা যায়, কিন্তু তাকে পরাজিত করা যায় না।”
আজ তিনি শুধু হবিগঞ্জ বা সিলেটের নয়, দেশের সব বিএনপি কর্মীর জন্য এক অগ্নিশিখা। তার সংগ্রাম, সাহস ও ত্যাগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রেরণা ও উদাহরণ হয়ে থাকবে।
