মঙ্গলবার, ১৯শে শ্রাবণ ১৪৩৩ - ৪ ঠা আগস্ট ২০২৬ ভোর

শিরোনামঃ

প্রচ্ছদজেলার খবরবিগত জালিম সরকারের আমলে আমরা ১১ জন শীর্ষ নেতাকে হারিয়েছি,কুলাউড়ায় জামায়াতের আমির...

বিগত জালিম সরকারের আমলে আমরা ১১ জন শীর্ষ নেতাকে হারিয়েছি,কুলাউড়ায় জামায়াতের আমির ডাঃশফিকুর রহমান। ৷ ,, স্টাফ রিপোর্টারঃ

মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) বিকেলে কুলাউড়ার ডাকবাংলো মাঠে উপজেলায় জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে। জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান বলেন,যে যেখানে থাকুকনা কেনো জন্মস্থানের একটা মায়া আছে একটা ভালোবাসা আছে নারীর টানে সবাই সেখানে যেতে চায়। ২০০১ সালের নির্বাচনের পর আমি আজ আপনাদের সামনে ২৪ বছর পর কথা বলার সুযোগ পেয়েছি। কুলাউড়ার মানুষ আমাকে যেভাবে চিনেন অন্য কেউ সেভাবে আমাকে চিনে না। আচ্ছা আপনারাই বলুন আমি কি যুদ্ধাপরাধী? না- অথচ আমার উপর যুদ্ধাপরাধির মামলা দেয়ার চেষ্টা করেছে সেই জালিম সরকার, যুদ্ধের সময় আমার বয়স ছিলো মাত্র সাড়ে ১২ বছর। সাড়ে ১২ বছরের মানুষ কি যুদ্ধকালীন সময়ে মানুষ খুন করতে পারে- এটাকি বিশ্বাসযোগ্য কথা? চেষ্টা করা হয়েছে। কেউ আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগও দেয়নি, সাক্ষ্যও দেয়নি। হিন্দু ভাইয়েরাও তাতে রাজি হয়নি। আমি সেই সময় জামায়াতে ইসলামী ও করতাম না। আমি অন্য একটা সংগঠন করতাম। যেটা বলতে এখন লজ্জা হয়।

আমির বলেন, বিগত জালিম সরকারের আমলে আমরা ১১ জন শীর্ষ নেতাকর্মীকে হারিয়েছি, ৫ শতাধিক মানুষ পঙ্গু হয়েছে। হাজার হাজার মানুষ হামলা মামলার শিকার হয়ে দেশ ছেড়ে বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নিয়েছে। সাড়ে ১৩ বছর সারাদেশে দলীয় কার্যালয় সিলগালা করে বন্ধ রাখা হয়েছিল। জামায়াতের নিবন্ধনও কেড়ে নেওয়া হয়।

ছাত্রদের কোটা আন্দোলন দেশের সকল মানুষের আন্দোলন ছিল জানিয়ে আমির বলেন, এটা কোনো দলের বা কোন গোষ্ঠির আন্দোলন ছিলনা। ওই আন্দোলন ছিল দেশের সকল মানুষের আন্দোলন। এর কৃতিত্ব ছাত্রজনতার। বাংলাদেশকে আল্লাহ্‌ জালিমের কবল থেকে মুক্ত করেছেন। ফিলিস্তিনকেও যেন আল্লাহ্‌ জালিমের হামলা থেকে মুক্ত করে দেন এই প্রত্যাশা তিনি ব্যক্ত করেন।

উপজেলা জামায়াতের আমির সহকারী অধ্যাপক আব্দুল মুন্তাজিমের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি বেলাল আহমদ চৌধুরীর সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্ম পরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগরের আমির মো. ফখরুল ইসলাম, সিলেট জেলার আমির মো. হাবিবুর রহমান, মৌলভীবাজার জেলার ভারপ্রাপ্ত আমির মাওলানা আব্দুর রহমান, সেক্রেটারি মো. ইয়ামীর আলী, জামায়াত মনোনীত মৌলভীবাজার জেলার সাবেক আমির সিরাজুল ইসলাম, মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী অ্যাডভোকেট আব্দুর রব, মৌলভীবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মাওলানা আমিনুল ইসলাম, জামায়াতের ঢাকা পল্টনের আমির শাহীন আহমদ খান, মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. নিজামুদ্দিন, কুলাউড়া উপজেলা সভাপতি আতিকুর রহমান তারেক প্রমুখ।

উল্লেখ্য, ডা. শফিকুর রহমান কুলাউড়া উপজেলার ভাটেরা ইউনিয়নের তুলাপুর গ্রামের কৃতী সন্তান। ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ৪ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে অংশ নেন। আগামী নির্বাচনে এই আসনে জামায়াত তাদের একক প্রার্থী হিসেবে জেলা জামায়াতের আমির ইঞ্জিনিয়ার মো. সায়েদ আলীর নাম ঘোষণা করেছে।

রিলেটেড

জনপ্রিয়