বিশেষ প্রতিনিধিঃ
মৌলভীবাজারে ভোটকেন্দ্রে হামলার ঘটনায় মামলা, আসামী ০৯ জন সহ অজ্ঞাতনামা আরো ৭/৮ জন।
মৌলভীবাজার সদরের মনুমুখ ইউনিয়নে অনুষ্ঠিতব্য একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্থানীয় বাজরাকোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোটকেন্দ্রে নৌকা প্রতীকের এজেন্ট মো: সেলিম মিয়া এর ওপর হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছে। এতে আকিদুর রহমানকে ০১ নং আসামী করে ০৯ জন সহ আরো অজ্ঞাতনামা ০৭ থেকে ০৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। গতকাল ০১/০১/২০১৯ ই তারিখে মৌলভীবাজার সদর থানায় বাদী হইয়া মামলাটি করেন মো: সেলিম মিয়া। মামলার পর গ্রেপ্তার আতঙ্কে গ্রাম ছেড়েছেন আসামীগণ।
মামলার এজাহারে বলা হয়, বিগত ৩০/১২/২০১৮ ইং তারিখে অনুষ্ঠিতব্য একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্থানীয় বাজরাকোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোট কেন্দ্রের নৌকা প্রতীকের এজেন্ট ছিলেন। বাদী কেন্দ্রে থাকা অবস্থায় আসামীগণ সহ অজ্ঞাতনামা আসামীগণ রামদা, হকিষ্টিক, রড, লাঠি দ্বারা বাদীকে প্রাণে হত্যার হুমকী দিয়া জানায় যে, বাদী কেন্দ্র থেকে বাহির হইয়া না আসিলে তাহারা বাদীকে প্রাণে হত্যা করিবে। বাদী আসামীগণের কার্যকলাপের প্রতিবাদ করিলে সকল আসামীগণ বাদীকে এলোপাভাড়ি কিল ঘুষি মারিয়া ও টানা হেচড়া করিয়া বাদীকে কেন্দ্রের বাহিরে নিয়া আসিলে তিনি প্রাণ রক্ষার্থে দৌড় দিয়া ভোট কেন্দ্রের বাহিরে অবস্থিত আওয়ামীলীগ প্রার্থীর অস্থায়ী নির্বাচনী কার্যালয়ে প্রবেশ করিলে সকল আসামীগণ তাহার পিছু নিয়ে সেখানে গিয়া পুনরায় তাহার সারা শরীরে এলোপাতারি কিল ঘুষি লাথি মারিয়া লিলাফুলা জখম করে। এই সময় ১ এবং ২নং আসামী হুকুম দেয় যে, বাদীকে প্রাণে হত্যা করিয়া ফেলার জন্য। তখন ১নং বিবাদী আকিদুর রহমান তাহার হাতে থাকা রামদা দিয়া বাদীকে প্রাণে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথা লক্ষ্য করিয়া ছেদ মারিলে সেই ছেদ বাদীর মাথার ডান পাশে পড়িয়া মারাত্মক কাটা রক্তাক্ত জখম হয়। তখন ২নং আসামী মোস্তাকিম তাহার হাতে থাকা দা দ্বারা বাদীকে প্রাণে হত্যার উদ্দেশ্য মাথা লক্ষ্য করিয়া ছেদ মারিলে উক্ত ছেদ বাদীর ঠোঁটের ডানদিকে পড়িয়া মারাত্মক কাটা রক্তাক্ত জখম হয়। সঙ্গে সঙ্গে ৩নং আসামীর হাতে থাকা রড দিয়া বাদীকে প্রাণে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথা লক্ষ্য করিয়া বারি মারিলে সেই বারি বাদীর মাথার বামদিকে পড়িয়া মারাত্মক ছেচা জখম হয়। তখন ৪নং আসামী শুভ মিয়া ও ৫নং আসামী ফাহিম আহমদ সকল আসামীকে বলে অফিসের সমস্ত আসবাবপত্র ভাংচুর করার জন্য। তখন ১নং আসামী আকিদুর রহমান সহ সমুহ আসামীগণ তাহাদের হাতে থাকা অস্ত্রশস্ত্র দিয়া আওয়ামীলীগের অস্থায়ী নির্বাচনী কার্যালয় ভাংচুর করে অনুমান ১৫,০০০/-টাকার ক্ষতি সাধন করে।
মামলার পর থেকেই গ্রেপ্তার আতঙ্কে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন আসামীগণ। বাড়ির সদস্যরা জানিয়েছেন, তাঁরা সকলেই এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন। তবে কোথায় গেছেন, তা তাঁরা জানাননি।
এ বিষয়ে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল আহাম্মদ বলেন, ভোটকেন্দ্রে অভিযোগকারীর ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার কাজ চলমান রয়েছে।
