বিশেষ প্রতিনিধিঃ




হাসিনার আমলের
‘লুটের সবচেয়ে বেশি টাকা গেছে যুক্তরাজ্যে, ফেরত আনা খুবই কঠিন’—লন্ডনে নাসের রহমান।
বিশেষ প্রতিনিধিঃ
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশ থেকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার পাচার, বিদেশে সম্পদের পাহাড় গড়া এবং রাষ্ট্রীয় অর্থ লুটপাটের অভিযোগ এনে বিস্ফোরক বক্তব্য দিয়েছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও মৌলভীবাজার-৩ (সদর-রাজনগর) আসনের সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান। তিনি দাবি করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের হাতে ইতোমধ্যে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও সম্পদের তথ্য এসেছে। তবে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা হবে অত্যন্ত কঠিন।
গত ২০ জুলাই পূর্ব লন্ডনের অট্রিয়াম হলে যুক্তরাজ্য প্রবাসী মৌলভীবাজারবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত এক নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দীর্ঘ বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বক্তব্যের শুরুতেই আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অর্থপাচার ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাটের অভিযোগ তুলে ধরেন তিনি।
নাসের রহমান বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকারে দেশ থেকে কত বিলিয়ন ডলার লুটিয়ে নিয়ে গেছে। খালি ইন্টিরিম গভর্মেন্টে ৭৪ হাজার কোটি টাকা আইডেন্টিফাই করা হয়েছে অ্যাসেটস অ্যান্ড ক্যাশ। কোনানো কোন জায়গায়, কোনো দেশে আছে লুট করার এ টাকা। ১১টা দেশের সঙ্গে এগ্রিমেন্ট করা হয়েছে। কিন্তু এসব লুটের টাকা ফেরত আনা খুব সহজ না। হাইয়েস্ট অ্যামাউন্ট অব লুটেড মানি হ্যাজ কাম টু ইউকে। এখান থেকে টাকা ফেরত নেয়া ইটস অ্যা ভেরি ভেরি টাফ।”
তিনি আরও বলেন, “এক সাইফুজ্জামান চৌধুরীর ৩৩৪টা বাড়ি। খালি তো এখানে না, দুবাই আছে, আরও কত দেশে আছে। এত টাকা লুজ হয়ে যাওয়ার পরে এ অবস্থা থেকে দেশটাকে উঠাইয়ে আনা অনেক কঠিন।”
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের ব্যয় নিয়েও প্রশ্ন তুলে নাসের রহমান বলেন, “একটা প্রজেক্ট ছিল সাড়ে ছয় বিলিয়ন ডলারের। আর হাসিনা নিছে এটা ১৩ বিলিয়ন ডলারে। জাস্ট ডাবল। নিউক্লিয়ার প্ল্যান্ট বানানোতে খরচ যাবে সাড়ে ছয় বিলিয়ন, আর বাকি সাড়ে ছয় বিলিয়নের মধ্যে তিন বিলিয়ন দিছে হাসিনা আর রেহেনারে। আর সাড়ে তিন বিলিয়ন পুতিন মেরে দিছে। আর টাকা দিমু আমরা।”
তিনি আরও বলেন, “টাকা ভেনিজুয়েলা আর বেলারুশে দিছে। টাকা নিয়ে সেখানে রাখছে। বেলারুশে আর ভেনিজুয়েলায়। মনে আছে হাসিনা একবার বেলারুশ গেছিল। কিছু নাই বেলারুশের সঙ্গে আমাদের। না আছে এলসি, না আছে ব্যবসা। ইনও গিয়ে হাজির হইছে কিতার লাগি? ইনও তাইন ব্যাংক একাউন্ট খুলতে গেছলা। বেলারুশের ব্যাংকে ব্যাংক একাউন্ট খুলতে গেছলা। পুতিন কইছে টাকা তো ডলারে দিতে পারব না, টাকা দিব রাশিয়ান রুবেলে। তো রাশিয়ান রুবেল পার্কিং করে রাখছে সাড়ে তিন বিলিয়ন ডলার।”
এরপর আরও কঠোর ভাষায় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সমালোচনা করে তিনি বলেন, “এ-ই যে শেখ হাসিনা ইলাখান দেশটারে লুটিয়া খাইছে। এভরিবডি হ্যাভ সিন। কিন্তু তার লজ্জা-শরম কিচ্ছু নাই। চৌদ্দশ মানুষরে মারিয়া ক্ষমতায় ঠিকার লাগি চেষ্টা করছে।”
ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার প্রসঙ্গ টেনে নাসের রহমান বলেন, “আর ইন্ডিয়ার ফরেন মিনিস্টার সংসদে কিতা কইছে—হাসিনা কইছে, নানি আমি তো জানিই না আমারে যে দিল্লি লইয়া যার। আমি তো মনে করছি আমারে গোপালগঞ্জে লইয়া যার। আর এখন হাটে হাড়ি ভাঙি দিছে ইন্ডিয়ার ফরেন মিনিস্টার। যে বেটিয়ে আমার সেলফোনে বলে—আমারে তাড়াতাড়ি একটু জায়গা দেও। এর তো সাইকোলজিক্যাল, প্যাথলজিক্যাল মিথ্যাচারিতা ছাড়া কিছু নাই। কোনো রিমোর্স নাই।”
গত ২০ জুলাই সোমবার পূর্ব লন্ডনের অট্রিয়াম হলে এ নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়।
বিশিষ্ট লেখক ও রাজনীতিবিদ শরিফুজ্জামান চৌধুরী তপনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও কমিউনিটি নেতা ড. হাসনাত এম হোসেইন এমবিই, বিবিসিআইয়ের সাবেক প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক শাহগীর বখত ফারুক, বিবিসিআইয়ের সাবেক প্রেসিডেন্ট সাইদুর রহমান রেনু, কমিউনিটি নেতা ও সাংবাদিক কে এম আবু তাহের চৌধুরী, যুক্তরাজ্য বিএনপির আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ এবং সদস্য সচিব খসরুজ্জামান খসরু।
সভা পরিচালনা করেন আলহাজ অদুদ আলম অদুদ ও দেলোয়ার হোসেন আহাদ।
অনুষ্ঠানে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহর থেকে আগত মৌলভীবাজারবাসী ও নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। এ সময় এম নাসের রহমানের সহধর্মিনী রেজিনা নাসের ও দুই কন্যা উপস্থিত ছিলেন।
