নিজস্ব প্রতিবেদকঃ


মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার রবিরবাজারের দূষিত বর্জ্য পদার্থ, শুকনা ছড়া নদীর চড়ে মাটি চাপা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কুলাউড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)। এসকল বর্জ্য পদার্থের সিংহভাগ প্লাস্টিক পলিথিনসহ অপচনশীল।
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার কর্মধা ও পৃথিমপাশা ইউনিয়নের মধ্যবর্তী স্থানে কর্মধা ইউনিয়নের জনসাধারণের চলাচলের প্রধান পথের পাশে রবিরবাজার পুকুরের ময়লা আবর্জনা ফেলা হলে স্থানীয়দের আপত্তি আমলে নিয়ে তা অপসারণ করান কুলাউড়া উপজেলার নির্বাহী অফিসার মোঃ মহিউদ্দিন।
এর ফলে উপজেলা প্রশাসনের সাথে জনসাধারণের আস্থার সম্পর্ক তৈরি হয়। এসময় অনেকে ফেইসবুকে পোস্ট দিয়ে উপজেলা প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানান।
কিন্তু বিপত্তির কারণ হয়ে দাড়ায় তার পরে যখন রবিরবাজারের দূষিত বর্জ্য পদার্থ নদীর তীরে রাস্তার পাশে ফেলা হয়। এর ফলে স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়, এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা সমালোচনা শুরু হয়। এর প্রেক্ষিতে রবিরবাজারের জনৈক পরিচ্ছন্নতা কর্মী যখন বলেন এসিল্যান্ডের নির্দেশে নদীর তীরে ময়লা ফেলা হচ্ছে। এবং নদীর চড়ের নিচু জায়গাতে গর্ত খনন করে প্লাস্টিক, পলিথিনসহ দূষিত অপচনশীল বর্জ্য পদার্থ মাটি চাপা দেওয়ার নির্দেশনা প্রদান করেছেন।
এবিষয়ে কুলাউড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহ জহুরুল হোসেন এর সাথে একাধিক সূত্রে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি স্বীকার করেন, এবং বলেন বাজারের পুকুরের ময়লা আবর্জনা এখানে নদীর জায়গাতে মাটিচাপা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অথচ বাজারের পুকুরের ময়লা আবর্জনা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশে এখান থেকে অপসারণ করা হয়েছিলো।
কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ পুকুরের ময়লা অপসারণের পর পুনরায় বাজারের দুর্গন্ধময় ময়লা আবর্জনা ফেলা শুরু করা হয় এবং তাতেই এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হন। স্থানীয়দের আপত্তির ফলে আবারও ময়লা ফেলা বন্ধ থাকলেও নদীর জায়গাতে মাটিচাপার সিদ্ধান্তে তিনি অবিচল থাকেন এবং গত ২১ মে গর্ত খননের জন্য একটি খনন যন্ত্র পাঠান।
খনন যন্ত্র পাঠানোর বিষয়ে এসিল্যান্ডের মি. শাহ জহুরুল হোসেন বলেন নদীতে পানি থাকায় আপাততঃ কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন এবং নদীর পানি নেমে যাওয়ার পর এবিষয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেবেন।
এবিষয়ে কর্মধা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি এম এ সালাম বলেন, এসিল্যান্ডের সাথে তার কথা হয়েছে, এবং নদীর চড়ে প্লাস্টিক, পলিথিনসহ ময়লা আবর্জনা মাটি চাপা দেওয়ার বিষয়টি পুন ব্যক্ত করেন।
অত্র এলাকার একাধিক পথচারী জানান, রাস্তার পাশে খোলা জায়গায় ময়লা ফেলার ফলে তাদের যাতায়াতে সমস্যা হচ্ছে। এবং এই রাস্তা দিয়ে অত্র এলাকার সকল শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করেন এবং কালা পাহাড়সহ পাহাড়ি ঝর্ণা ও চা বাগানে আসা পর্যটকেরা যাতায়াত করেন। তাদের মধ্যে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
এবিষয়ে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ ইসরাইল হোসেনের সাথে যোগাযোগ এবং করা হলে জানান বিষয়টি তার নজরে আছে।
বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ রবিরবাজার ভূমি অফিস থেকে যানা যায় রবিরবাজার-কর্মধা সড়কের পার্শ্ববর্তী শুকনা ছড়া নদীর খাস খতিয়ানের ৩৫৩১ দাগ। অত্র দাগের অন্তর্ভুক্ত ৫.৭৬ একর নদীর মধ্যে অত্র অফিসের অধিনে রয়েছে ১.৪৪ একর নদী। ময়লা আবর্জনা মাটি চাপা দেওয়ার সিদ্ধান্ত ভুক্ত জায়গাটি শুকনা ছড়া নদীর অংশ।
