মৌলভীবাজার প্রতিনিধিঃ


সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত অভিযোগের প্রতিবাদে আব্দুল কাইয়ুম রুমনের বক্তব্য
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
মৌলভীবাজার শহরের সৈয়দ সিকন্দর আলী রোডের বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী আব্দুল কাইয়ুম রুমন তাঁর বিরুদ্ধে গত ২৩ অক্টোবর আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত বিভিন্ন অভিযোগের প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, ভিসা জালিয়াতি ও প্রতারণার শিকার হয়ে তিনি নিজেই বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে তাঁর ও পরিবারের সম্মানহানির উদ্দেশ্যে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রোববার (২৫ অক্টোবর) এক লিখিত বক্তব্যে রুমন তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। এ সময় তিনি কয়েকটি আর্থিক লেনদেনের পক্ষে ব্যাংক স্টেটমেন্ট থাকার কথাও জানান।
আতিকুল ইসলামের পাওনা নিয়ে বক্তব্য
আতিকুল ইসলামের ৩৬ লাখ টাকা পাওনা এবং তা পরিশোধ না করার অভিযোগ অস্বীকার করে আব্দুল কাইয়ুম রুমন বলেন, সিটি ব্যাংকের নিজস্ব হিসাব থেকে বিভিন্ন সময়ে আতিকুল ইসলামের ইস্টার্ন ব্যাংকের মৌলভীবাজার শাখার ব্যক্তিগত হিসাবে মোট ২৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা পরিশোধ করেছেন তিনি। এর মধ্যে দুটি পৃথক তারিখে পাঁচ লাখ টাকা করে দেওয়ার তথ্য উল্লেখ করেন তিনি। এসব লেনদেনের পক্ষে ব্যাংক স্টেটমেন্ট সংবাদকর্মীদের দিয়েছেন বলেও দাবি করেন রুমন।
জয়নুল ইসলামের পাওনা ও সালিশের বিষয়ে দাবি
এম.ডি. জয়নুল ইসলামের ২১ লাখ টাকা পাওনা থাকার অভিযোগের বিষয়ে রুমন বলেন, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও আত্মীয়স্বজনের উপস্থিতিতে সালিশের মাধ্যমে তাঁর পাওনা ১৫ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। ওই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সিটি ব্যাংকের দুটি হিসাব থেকে জয়নুল ইসলামের উত্তরা ব্যাংকের মৌলভীবাজার শাখার হিসাবে ১২ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
জুয়েনা আক্তারের অভিযোগ প্রসঙ্গে
জুয়েনা আক্তারের ২৯ লাখ টাকা পাওনা থাকার দাবির বিষয়ে রুমন বলেন, তাঁর স্বামী আব্দুল আহাদের ব্যাংক এশিয়ার হিসাব এবং সিটি ব্যাংকের মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে মোট ১২ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। এ বিষয়ে তাঁর কাছে লেনদেনের তথ্য রয়েছে বলেও জানান তিনি।
বিচারাধীন মামলা নিয়ে প্রশ্ন
কামরান আহমেদ ও লিপি বেগমের সঙ্গে বিরোধের প্রসঙ্গ তুলে রুমন বলেন, তাঁদের দায়ের করা চেকসংক্রান্ত মামলা হবিগঞ্জ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এ অবস্থায় সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি প্রকাশ্যে তুলে ধরার বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। বিষয়টি আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করে আদালতের নজরে আনার কথা জানান। সংবাদ সম্মেলনে বাবুল মিয়া নামে এক ব্যক্তির উপস্থিতি নিয়েও আপত্তি তুলে তিনি দাবি করেন, ওই ব্যক্তি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না।
ভিসা জালিয়াতির মাধ্যমে প্রায় চার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ
নিজের আর্থিক সংকটের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আব্দুল কাইয়ুম রুমন দাবি করেন, বিদেশে লোক পাঠানোর কথা বলে একটি চক্র জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে তাঁর কাছ থেকে প্রায় চার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সানি নামে বড়কাপনের এক ব্যক্তির কাছে তাঁর প্রায় এক কোটি ৭০ লাখ টাকা পাওনা ছিল। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় সালিশের মাধ্যমে ওই পাওনার একটি অংশ বাদ দিয়ে অবশিষ্ট অর্থ আদায়ের ব্যবস্থা করা হয়।
এ ছাড়া তাঁর দায়ের করা প্রতারণা মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত এক আসামি বর্তমানে অন্য মামলায় কারাগারে রয়েছেন এবং ওই ব্যক্তির কাছে তাঁর প্রায় দুই কোটি টাকা পাওনা রয়েছে বলে দাবি করেন রুমন।
তিনি বলেন, পাওনাদারদের অর্থ পরিশোধের জন্য পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি এবং পরিবারের সদস্যদের সহায়তা নিয়ে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি আত্মগোপনে না থেকে প্রতারণার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন বলেও দাবি করেন।
মামলার সাক্ষীদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ
রুমনের দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়া আতিকুল ইসলাম, এম.ডি. জয়নুল ইসলাম, জুয়েনা বেগম, কামরান আহমদ ও লিপি বেগম—এই পাঁচজনই তাঁর দায়ের করা প্রতারণা মামলার সাক্ষী। বিষয়টি জানা সত্ত্বেও তাঁরা তাঁর ও তাঁর পরিবারের সম্মানহানির উদ্দেশ্যে অভিযোগ তুলেছেন বলে দাবি করেন তিনি।
এসব অভিযোগের প্রতিবাদ জানিয়ে রুমন বলেন, তাঁর বক্তব্য ও আর্থিক লেনদেনের তথ্য যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরা প্রয়োজন। মানহানিকর বক্তব্যের বিরুদ্ধে আইনজীবীর পরামর্শ নিয়ে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কোনো পক্ষের বক্তব্যের ওপর নির্ভর না করে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য ও প্রমাণ যাচাই করে সংবাদ প্রকাশ করা উচিত, যাতে প্রকৃত ঘটনা উঠে আসে এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হয়।
